নিজের পূর্বজন্মের পরিচয় লুকাতে কাব্যের পাতা ছিঁড়ে নিল কুন্তল, আবারো বিপাকে পড়ল গোরা-দিতি!

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, আজ থেকে সাত জন্ম আগে ফুল যে তার মনে জমানো সব কথা তার প্রাণের সখী তমালিকাকে বলত। ফুল ভালোবাসত মুরারিকে। কিন্তু যাকে সে সবচেয়ে বিশ্বাস করত, সেই তমালিকাই ছিল তার আসল শত্রু। মুরারিকে নিজে পাওয়ার লোভে তমালিকা সেই গোপন ভালোবাসার কথা আশ্রমের সবাইকে জানিয়ে দেয়। ফুলের জীবনের বড় বিপদটা আসে তার সবথেকে কাছের মানুষের হাত ধরেই।

তমালিকার দেওয়া খবরের ভিত্তিতে আশ্রমে যখন বিচার শুরু হয়, তখন এক ভয়াবহ ভুল হয়ে যায়। সবাই আসল ফুল ভেবে তার যমজ বোন মালাকে জ্যান্ত আগুনে পুড়িয়ে মারে। তমালিকা ভেবেছিল মালা মারা যাওয়ায় তার পথ পরিষ্কার হয়ে গেছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে রাখা অক্ষয় বুঝতে পারে যে আগুনে মালা মারা গেছে, আসল ফুল নয়। এরপর সে সত্য ধামাচাপা দিতে আসল ফুলকে তাড়া করতে শুরু করে।
নিজের প্রিয় বোনের মৃত্যু এবং সব সত্য জানতে পেরে ফুল যখন চিৎকার করে সবাইকে সব জানাতে চায়, তখন অক্ষয় তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। কোনো উপায় না দেখে এবং পরিস্থিতির চাপে পড়ে ফুল শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়ে দেয়। এরপর অনেক বছর পার হলে তমালিকা মুরারির আশ্রমে গিয়েও শেষ রক্ষা পায়নি। মুরারি তার ঐশ্বরিক শক্তিতে তমালিকার সব অপরাধ জেনে ফেলেন এবং তাকে আশ্রম থেকে বের করে দেন। রাগের মাথায় তমালিকা পুরো আশ্রমে আগুন লাগিয়ে সব জ্বালিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: রাহুলের মৃত্যুর পর বন্ধ একের পর এক ধারাবাহিক! প্রযোজনা ছাড়ছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়?
বহু বছর পর বর্তমান যুগে এসে দিতি সেই পুরনো পবিত্র কাব্যটি রক্ষা করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু অপারেশনের পর জ্ঞান ফিরলে দিতি জানতে পারে, যে মূল্যবান পুঁথিটি সে নিজের জীবন দিয়ে বাঁচাতে চেয়েছিল, সেটি এখন এক অশুভ শক্তির হাতে চলে গেছে। নিজের শারীরিক কষ্টের চেয়েও দিতির মনে এই কষ্ট বেশি ছিল যে, তার এত পরিশ্রমের জিনিস আজ একজন খারাপ মানুষের দখলে। এই দুশ্চিন্তায় দিতি মানসিকভাবে একেবারে ভেঙে পড়ে।
শয়তানি বুদ্ধি ও এক অজানা ভবিষ্যৎ
গল্পের শেষে দেখা যায়, দিতি ও গোরা যখন পাশে নেই, তখন কুন্তল গোপনে সেই কাব্যটি পড়তে শুরু করেছে। তার চোখেমুখে জয়ের আনন্দ এবং শয়তানি হাসি। সে জানত এই বইয়ের ভেতর এমন কিছু গোপন তথ্য আছে যা তাকে অনেক ক্ষমতার অধিকারী করবে। একদিকে দিতি আর গোরার অসহায় অবস্থা, আর অন্যদিকে কুন্তলের এই ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা সব মিলিয়ে এক চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে কাহিনীটি শেষ হয়।

